পশ্চিমবঙ্গ সরকার | শ্রম ও কর্মসংস্থান বিভাগ

ই-শ্রম কার্ড ২০২৬: অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য ২ লক্ষ টাকার ফ্রি বীমা ও মাসিক ভাতা! মোবাইল থেকে অনলাইনে কীভাবে বানাবেন?

প্রকাশকাল: মে ১৮, ২০২৬
ই-শ্রম কার্ড ২০২৬: অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য ২ লক্ষ টাকার ফ্রি বীমা ও মাসিক ভাতা! মোবাইল থেকে অনলাইনে কীভাবে বানাবেন?

 ভূমিকা (Introduction):

আমাদের দেশের অর্থনীতির একটি বিশাল চাকা ঘোরান অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা। রিকশাচালক, পরিচারিকা, নির্মাণকর্মী, সবজি বিক্রেতা থেকে শুরু করে দিনমজুর—এঁরা প্রত্যেকেই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সচল রাখেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সরকারি চাকরিজীবী বা সংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের মতো এদের কোনো নির্দিষ্ট মাসিক বেতন, পেনশন বা দুর্ঘটনাজনিত বীমা থাকে না। করোনা মহামারীর সময় এই অসংগঠিত শ্রমিকদের দুর্দশা আমরা সবাই দেখেছি। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে এবং দেশের কোটি কোটি শ্রমিকের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ভারত সরকার চালু করেছে—'ই-শ্রম পোর্টাল' (E-Shram Portal)। এই পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করলেই শ্রমিকরা একটি 'ই-শ্রম কার্ড' (E-Shram Card) পাবেন, যার মাধ্যমে তারা ২ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে বীমাসহ একাধিক সরকারি সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। আজকের নিবন্ধে আমরা জানবো ই-শ্রম কার্ড কী, এর প্রধান সুবিধাগুলো কী এবং কীভাবে মোবাইল দিয়ে সহজেই এই কার্ড বানানো যায়।

ই-শ্রম কার্ড কী? (What is E-Shram Card?):

ই-শ্রম হলো ভারত সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের তৈরি করা একটি জাতীয় ডেটাবেস। দেশের ৩৮ কোটিরও বেশি অসংগঠিত শ্রমিককে একটি ছাতার তলায় আনার জন্য এই পোর্টালটি তৈরি করা হয়েছে। যে শ্রমিক এই পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করবেন, তাকে একটি ১২ সংখ্যার ইউনিক 'UAN' (Universal Account Number) সম্বলিত ই-শ্রম কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডটি আধার কার্ডের মতোই সারা দেশে বৈধ এবং আজীবন এর মেয়াদ থাকে।

ই-শ্রম কার্ডের প্রধান ৫টি সুবিধা (Key Benefits of E-Shram):

১. ২ লক্ষ টাকার দুর্ঘটনা বীমা: কার্ডধারীর যদি কোনো দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় বা তিনি সম্পূর্ণ পঙ্গু হয়ে যান, তবে তার পরিবারকে সরকার থেকে ২ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আংশিক পঙ্গু হলে ১ লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে (প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনার আওতায়)। এর প্রথম বছরের প্রিমিয়াম সরকার নিজেই বহন করে।

২. পেনশনের সুবিধা: ই-শ্রম কার্ডধারীরা খুব সহজেই 'প্রধানমন্ত্রী শ্রমযোগী মানধন যোজনা' (PM-SYM)-এ যুক্ত হতে পারেন, যার ফলে ৬০ বছর বয়সের পর তারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে গ্যারান্টিড পেনশন পাবেন।

৩. বিপদের সময় সরাসরি অর্থ: করোনা বা অন্য কোনো জাতীয় বিপর্যয়ের সময় সরকার যখন শ্রমিকদের আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করবে, তখন সেই টাকা সরাসরি (DBT-এর মাধ্যমে) ই-শ্রম কার্ডধারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে।

৪. সরকারি প্রকল্পের সহজলভ্যতা: গরিব কল্যাণ যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত বা বিনামূল্যে রেশনের মতো স্কিমগুলোর সুবিধা ই-শ্রম কার্ডের ডেটাবেস দেখেই প্রদান করা হয়।

৫. কর্মসংস্থানের সুযোগ: পোর্টালে শ্রমিকের দক্ষতা অনুযায়ী ডেটা সেভ করা থাকে, ফলে ভবিষ্যতে তাদের কাজের সুযোগ পাওয়া অনেক সহজ হবে।

ই-শ্রম কার্ড ২০২৬: অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য ২ লক্ষ টাকার ফ্রি বীমা ও মাসিক ভাতা! মোবাইল থেকে অনলাইনে কীভাবে বানাবেন?

কারা ই-শ্রম কার্ড বানাতে পারবেন? (Eligibility Criteria):

  • বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স ১৬ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  • পেশা: যেকোনো অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক—যেমন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, পরিচারিকা, বিউটি পার্লার কর্মী, ডেলিভারি বয়, রিকশাচালক, দর্জি, আসা কর্মী (ASHA), অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ইত্যাদি।
  • শর্ত: আবেদনকারীকে ইনকাম ট্যাক্স (Income Tax) দাতা হওয়া চলবে না এবং তিনি যেন EPFO বা ESIC-এর সদস্য না হন (অর্থাৎ পিএফ ফান্ডের সুবিধা পান না এমন ব্যক্তিরা)।

কী কী ডকুমেন্টস লাগবে? (Required Documents):

ই-শ্রম কার্ড বানানোর জন্য কোনো লম্বা কাগজের প্রয়োজন নেই। শুধু হাতের কাছে রাখুন:

১. নিজের আধার কার্ড (Aadhaar Card)।

২. আধার কার্ডের সাথে লিংক করা একটি সচল মোবাইল নম্বর।

৩. ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসবুক (IFSC কোড সহ)।

কীভাবে মোবাইল থেকে অনলাইনে ই-শ্রম কার্ড বানাবেন? (Online Application Process):

আপনি চাইলে কোনো সিএসসি (CSC) সেন্টারে না গিয়ে নিজের স্মার্টফোন থেকেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মাত্র ৫ মিনিটে এই কার্ড বানাতে পারেন:

  • ধাপ ১: প্রথমে মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে ই-শ্রমের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (eshram.gov.in) যান।
  • ধাপ ২: হোমপেজে থাকা "Register on e-Shram" অপশনে ক্লিক করুন।
  • ধাপ ৩: আপনার আধার কার্ডের সাথে যে মোবাইল নম্বরটি লিংক করা আছে, সেটি বক্সে লিখুন এবং ক্যাপচা কোড (Captcha) দিয়ে 'Send OTP' বাটনে ক্লিক করুন।
  • ধাপ ৪: মোবাইলে আসা OTP বসিয়ে সাবমিট করার পর নিজের ১২ সংখ্যার আধার নম্বরটি লিখুন এবং আবার OTP-এর মাধ্যমে ভেরিফাই করুন।
  • ধাপ ৫: এবার আপনার সামনে একটি ফর্ম খুলে যাবে। সেখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বর্তমান পেশা (Trade/Skill) এবং ব্যাংকের সঠিক ডিটেইলস (Account No ও IFSC Code) সতর্কতার সাথে পূরণ করুন।
  • ধাপ ৬: সব তথ্য মিলিয়ে 'Final Submit' বাটনে ক্লিক করলেই আপনার স্ক্রিনে একটি ডিজিটাল 'E-Shram Card' (UAN কার্ড) চলে আসবে। আপনি সহজেই 'Download UAN Card' অপশনে ক্লিক করে সেটি পিডিএফ (PDF) ফরম্যাটে ফোনে সেভ করে নিতে পারবেন এবং পরে প্রিন্ট করে লেমিনেট করে নিতে পারবেন।

উপসংহার (Conclusion):

ই-শ্রম কার্ড দেশের কোটি কোটি খেটে খাওয়া মানুষের জন্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা। এটি বিপদের সময় যেমন পরিবারের পাশে দাঁড়ায়, তেমনি ভবিষ্যতের পেনশনের পথও প্রশস্ত করে। আপনি যদি এই অসংগঠিত ক্ষেত্রের আওতায় পড়েন, তবে অবহেলা না করে আজই নিজের মোবাইল থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ই-শ্রম কার্ডটি বানিয়ে নিন। আপনার একটি স্মার্ট সিদ্ধান্ত আপনার এবং আপনার পরিবারের ভবিষ্যতকে সুরক্ষিত করতে পারে।

(Labels): ই-শ্রম কার্ড, E-Shram Card, শ্রমিক কল্যাণ, সরকারি ভাতা, Government Schemes

অ্যাডমিন প্যানেল

অফিস ড্যাশবোর্ড

পশ্চিমবঙ্গ সরকার

মোট আবেদন

0

পেন্ডিং আবেদন

0

গৃহীত (Accepted)

0

বাতিল (Rejected)

0

সকল আবেদনকারীর তালিকা

নামআধার নম্বরশিক্ষাগত যোগ্যতাস্ট্যাটাসঅ্যাকশন
ডেটা লোড হচ্ছে...

ওয়েলকাম ব্যানার অন/অফ (Welcome Banner)

সাইটে ঢোকার সময় যে পপ-আপ ব্যানারটি আসে, সেটি এখান থেকে চালু বা বন্ধ করতে পারবেন।

৮. ওয়েবসাইট সেকশন কন্ট্রোল (Section Reorder)

উপর-নিচ (⬆️ ⬇️) বাটনে ক্লিক করে সেকশনগুলো নিজের মতো সাজান এবং সেভ করুন।

১. ইমেজ কন্ট্রোল সেন্টার (Image Uploads)

ওয়েলকাম ব্যানার ছবি

স্টেকহোল্ডার লোগো ব্যানার (Stakeholders Image)

২. প্লে স্টোর অ্যাপ লিংক (Play Store)

অ্যাপ লাইভ হলে এখানে গুগল প্লে স্টোরের লিংক বসিয়ে সেভ করুন। (ফাঁকা রাখলে Coming Soon দেখাবে)

৩. ব্যানারের লেখা

৪. হিরো সেকশন (হোমপেজ টপ)

৫. পরিচিতি সেকশন (About)

৬. অন্যান্য সেকশন টাইটেল

৭. ফুটার কপিরাইট (Footer)